Thursday, March 11, 2021

সম্পদের ঔদ্ধত্য এবং আমরা


আমি যদি ফিদেল কাস্ত্রোর মেয়ের নাম- ঠিকানা জানতাম তাহলে তাকে চিঠি লিখে বলতাম, "তুমিই ভুল, তোমার বাবাই ঠিক ছিল"।
আমি ব্যক্তিগতভাবে অবাধ ব্যক্তিস্বাধীনতা ও মুক্তচিন্তার পক্ষে হলেও সমাজতন্ত্রের মতো একটি বদ্ধ ব্যবস্থার গুণগান কেনো গাইছি তা এই লেখায় ব্যাখ্যা করবো।

যে আমেরিকা ৬৩৮ বার ফিদেল কাস্ত্রোকে মারার ব্যর্থ চেষ্টা চালায় ফিদেল কাস্ত্রোর মেয়ে বাবার উপর অভিমান করে দেশ ছেড়ে সেই আমেরিকাতে গিয়ে বসবাস করছে, সে ধনতন্ত্রের সমর্থক, অবাক ব্যক্তিস্বাধীনতার সমর্থক। কিন্তু আমরা বিশ্বের অধিকাংশ দেশে এই কাল্পনিক অবাধ ব্যক্তিস্বাধীনতার স্বাদ কতটা পাচ্ছি তাই এখন দেখার বিষয়। আসুন দেখে নিই আমরা সেই অবাধ ব্যক্তিস্বাধীনতার সুখ কতটা পাচ্ছি!

অবাধ ব্যক্তিস্বাধীনতা বলতে বুঝায় গণতন্ত্র। উন্নত বিশ্বের গণতন্ত্র সফল, কিন্তু অনুন্নত বিশ্বে গণতন্ত্র এক মেরুদণ্ডহীন স্বপ্নের নাম; যে স্বপ্নের শুরু জন্মের পরে আর মৃত্যুর পূর্বেও তার স্পর্শ লাভ করার সৌভাগ্য আমাদের হয় না।

অনুন্নত বিশ্বে গণতন্ত্র সর্বসাধারণের স্বাধীনতা নয় বরং পরিণত হয়েছে মুষ্টিমেয় অভিজাত শ্রেণির অতি অবাধ স্বাধীনতা লাভের হাতিয়ারে। পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র সর্বত্র উদ্ভব হয়েছে কতৃত্ববাদের। আর শুধু এই কতৃত্ববাদীরাই লাভ করছে সেই অবাধ মুক্ত ব্যক্তিস্বাধীনতা। আর বাকিরা পরিণত হয়েছে তাদের পীড়নের শিকারে।

অনুন্নত বিশ্বের ব্যর্থ গণতন্ত্র আমাদেরকে জাতীয় জীবনে উপহার দিয়েছে আইনশৃঙ্খলার দুর্গতি ও বিচারহীনতা। ফলে নিরাপত্তার শঙ্কা এবং মতামত প্রকাশের ও অন্যয়ের প্রতিবাদের ক্ষেত্রেও হামলার ভয়। প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে হারিয়ে গেছে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড। তাহলে আর সুস্থ নাগরিক জীবনের কোন জিনিসটা বাকি থাকলো?

অনুন্নত বিশ্বে যেখানে আমার ব্যক্তিসম্মান নাই, জানমালের নিরাপত্তা নাই, মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা নাই, সুবিচার পাওয়ার নিশ্চয়তা নাই সেখানে কাল্পনিক ব্যক্তিস্বাধীনতা দিয়ে আমি কী করবো?

সমাজতন্ত্রের দেশগুলোতে বেকারত্বের সমস্যা থাকেনা। তারা বেকার সমস্যা সমাধানে কী ধরনের পদ্ধতি গ্রহণ করে থাকে তা চীন, রাশিয়া, কিউবার ইতিহাস পড়লে বুঝতে পারবেন। তাই তাদের তরুণ প্রজন্মের সম্ভাবনাময় সময়টা আনপ্রডাক্টিভ কাজে ব্যয় হয় না, সেটার সদ্ব্যবহার হয়। আর অনুন্নত বিশ্বের ব্যর্থ গণতন্ত্রের দেশে নিয়োগ বোর্ড ও সরকারি কোষাগার বেকারদের রক্ত চুষে জোঁকের মতো ফুলে ফেপে উঠে। তরুণদের সম্ভাবনাময় সময়টা ব্যয় হয় বেকারত্ব নামক হতাশায়।

এসব তো গেলো বড় পরিসরের কথা। এখন আরেকটু গভীরে ঢুকি, পরিবারে। ব্যক্তিগত সম্পত্তির অধিকারী হওয়ায় ক্ষমতায় পরিবারের কর্তা কতৃত্ববাদী হয়ে উঠে পরিবারের অন্য সদস্যদের উপর; হয় নারী নির্যাতন ও শিশু নির্যাতন অধিকন্তু শিশুদের উপর মানসিক নির্যাতন।
ব্যক্তিগত সম্পত্তি মানুষকে পাশবিক করে তোলে। ব্যক্তিগত সম্পত্তির কারণে পাওয়ারফুল হয়ে স্বামী স্ত্রীকে নির্যাতন করে, বাবা-মা সন্তানকে নির্যাতন করে। আমি মোটেও গাঁজাখুরি কথা বলছি না, নিজ চোখে দেখা বাস্তবতা তুলে ধরছি।

এবার এর সামাজিক প্রভাব সম্পর্কে বলি। এর ফলে সমাজের বিত্তশালীরা কতৃত্ববাদী ও চড়াও হয়ে উঠে সমাজের সাধারণের উপর। বিষয়টা বুঝানোর জন্য প্রথমেই একটা গল্প বলে নিই-
আমি একটা মেয়েকে ভালোবাসতাম। মেয়েটার পরিবার বিদেশে (মধ্যপ্রাচ্যে) ওডজব করে অনেক টাকার মালিক হয়। ফলে তারা বিনয়ী হওয়ার পরিবর্তে কতৃত্ববাদী হয়ে উঠে। সেই সময়ে তারা এক পয়সাওয়ালা বরের সন্ধান পায় ও যেও মধ্যপ্রাচ্যে কাজ করে ধনী হয়েছিল। তার সাথেই মেয়েটার বিয়ে হয়। তারা জানতো ছেলেটা এইচএসসি পাশ, কিন্তু ঘটক ঘুষ খেয়েছিল। ছেলেটা কোনো পড়াশুনাই করেনি। অন্যদিকে মেয়েটা এইচএসসি পাশ করে ভর্তি প্রত্যাশী। ফলে বিয়েটা টেকেনি।
যাহোক ডিভোর্সের পরেও আমি মেয়েটাকে বিয়ে করতে চেয়েছিলাম। তখন মেয়েটার নানা আমাদের গ্রামে এসে কিছু লোকের কাছে আমাদের সম্পর্কে যাচ্ছেতাই বলে গেছে। আমি নাকি তাদের মেয়ের যোগ্যই নই। অথচ তাদের মেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ফরম তোলার যোগ্যতাই অর্জন করতে পারেনি। আর আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হয়েও তার যোগ্য নই! আর একজন এইচএসসি পাশ করেই তার যোগ্য ছিল, কারণ তার টাকা ছিল।
আমার এক বন্ধু একবার আমাকে বলেছিল, "একটা বিষয় দেখো, তুমি ভালো না মন্দ সমাজে তা নির্ণয় করা হবে তোমার সম্পদ দিয়ে। মনে করো তুমি একটা পরিচিত লোককে তাদের মেয়েকে বিয়ে করার প্রস্তাব দিলা তাহলে সেই লোকটা কী করবে জানো?
যদি তোমার সম্পদ না থাকে তাহলে সেই লোকটা অন্যদের কাছে বলে বেড়াবে, অমুকের ছেলেটাকে ভালো ভেবেছিলাম কিন্তু এ ভিতরে ভিতরে এত খারাপ ভাবতেও পারিনি...; আর যদি তোমার সম্পদ থাকে তাহলে বলবে, যাক বাহে পরিচিতর মাঝেই একজন ভালো ছেলে পেলাম, আর দূরে যাই কেনো? এখানেই বিয়েটা দেই।
তার মানে তুমি ভালো নাকি মন্দ তা ঠিক করা হচ্ছে তোমার সম্পদের উপর ভিত্তি করে, সততার উপর ভিত্তি করে নয়।"
এভাবেই ব্যক্তিগত সম্পত্তি মানুষের মানবিক বোধগুলোকে ধ্বংস করছে; মানুষ কতৃত্ববাদী ও অমানুষ হয়ে যাচ্ছে।

উচ্চমাধ্যমিকের বাংলা বইয়ে কোনো এক গল্পে একটা উক্তি পড়েছিলাম- "হাতে বন্দুক থাকলে নিরীহ মানুষেরও চোখ পড়ে পশুপাক্ষীর দিকে"। ঠিক তেমনি অনুন্নত বিশ্বে গণতন্ত্রের শ্রেষ্ঠ উপহার ব্যক্তিগত সম্পত্তি মানুষকে কতৃত্ববাদী করে তোলে আর শুধু কতৃত্ববাদীরা সুবিধা ভোগ করে।

ফলে ব্যক্তির কেনো সম্পত্তি থাকবে? সম্পত্তি থাকবে রাষ্ট্রের ও রাষ্ট্র তার নাগরিকদের পারফরমেন্স অনুযায়ী তাকে আরও ভালো করার জন্য বোনাস ও সাপোর্ট দেবে। এতে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড প্রতিষ্ঠিত হবে।

তবে এটা ঠিক যে, আমাদের এসব কথা শুধুই ভুতের বকুনি। আমাদের আবস্থা প্যারালাইজড হয়ে যাওয়া গরুর মতো। দেশে যতই উন্নয়ন উন্নয়ন গীতের ক্যাসেড বাজুক না কেনো নাগরিকদের মনে স্বস্তি না থাকলে এসব অর্থহীন।

© লেখক : মেহেদী হাসান।
বই : আই ডোন্ট কেয়ার (লেখা চলছে)।



লাইফের বিভিন্ন বিষয়ে উপদেশ-পরামর্শ পেতে লাইফ একাডেমির অ্যাডভইস ডেক্সে আসুন। আর Advice Desk এর ওয়েবসাইটের হোমপেজে যেতে এখানে—ক্লিক—করুন

সুন্দর জীবনের জন্য পরামর্শ | Advice Desk

Thursday, January 14, 2021

যে কারণে কেয়ার করার মতো কেউ নেই আমার!


জীবনের একটি রূঢ় বাস্তবতা হলো, তোমার স্বপ্নের বিষয়ে কিংবা কোনো বৃহৎ কাজের উদ্যোগে তোমাকে পাম দেওয়ার ও প্রশংসা করার অনেক লোক থাকবে, আবার তুমি প্রত্যাশা মাফিক তা করতে না পারলে তোমার সমালোচনা করার লোকও থাকবে এবং সান্ত্বনা দেওয়ার লোকেরও অভাব হবে না। কিন্তু সেই কাজে তোমাকে হেল্প করার মতো, তোমার পাশে থাকার মতো একজনকেও পাবে না।
লাইফের এসব রূঢ় বাস্তবতা আমি খুব কাছে থেকে দেখেছি এবং এখনও দেখছি।
এর কারণ কী জানেন? ফর্মালিটিস। এসব করতে তো আর কোনো প্রয়াস প্রয়োজন হয় না, শুধু অল্প একটু সময় দিলেই হয়। আর আমি এসব ফর্মালিটিস করি না বলে আমি অভদ্র মানুষ; আমি যা করি তা সারপূর্ণ মূল কাজটা করি, আর তা না পারলে এসব ফর্মালিটিস ধরণের অসার কাজ আমি করি না।
তুমি পারবে, এগিয়ে যাও, তোমার পাশে আছি এ সে হ্যান ত্যান— এসব ফর্মালিটিস কথাবার্তা যারা বলে প্রয়োজনের সময় হ্যাজাক লাইট লাগিয়েও তাদের কাউকে খুঁজে পাওয়া যায় না; এটাই বাস্তবতা।
আমি জীবনে বহু বৈচিত্রপূর্ণ কাজ করেছি ফলে মানুষের মেন্টালিটি ও ক্যারেক্টারের উপর অনেকটা পিএইচডি করে ফেলেছি। শুধু সার্টিফিকেটটা পাইনি, এই আর কি!
এমনও লোক আছে যারা কাছের মানুষ হয়ে বাঁশ দেয়, আবার দয়ালু-সাধু সেজে এসে সান্ত্বনাও দেয়।
আমি বিশ্বাস করি আপনি যদি কাউকে সাহায্য না করে থাকেন তবে তার কাজের গুণগত মান সম্পর্কে সমালোচনা করার অধিকার আপনার নাই। বাংলাদেশ ক্রিকেট দল খারাপ খেললে আপনি তার সমালোচনা করতে পারেন, কারণ যে করের টাকার সরকারি কোষাগার থেকে তারা বেতন পায় সেখানে আপনিও কর দেন; সরকার কোনো অসংগতিপূর্ণ কাজ করলে আপনি তার সমালোচনা করতে পারেন; কারণ আপনিও রাষ্ট্রের জন্য কর দেন। কিন্তু কেউ ব্যক্তি উদ্যোগে কোনো সামাজিক কাজ করলে তার কাজের মান সম্পর্কে সমালোচনা করার অধিকার আপনার নাই। কেউ তার বাবার শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠানে খেতে ডাকলে সেখানে খাবারের মান খারাপ হলে সে বিষয়ে সমালোচনা করার অধিকার আপনার নাই, আপনি খেলে খান, না খেলে উঠে যান।
অথচ, অধিকাংশ মানুষ অনধিকারচর্চামূলক পরচর্চা করে অমৃতরস আস্বাদনের মতো স্বাদ পেয়ে থাকেন।
'শাসন করা তারই সাজে সোহাগ করে যে'— তেমনি সমালোচনা করা তারই সাজে সাহায্য করে যে।

আরও একটি রূঢ় বাস্তবতা হলো, এ জগতের মানুষ সবাই স্বার্থবাদী এবং তারা শাক দিয়ে মাছ ঢাকার মতো স্বার্থবাদীতার বিভৎস রূপটাকে ঢেকে রাখার জন্য যুক্তি ব্যবহার করে।
জানতে চাও কীভাবে? তাহলে শুনো— অন্য মানুষের কথা পরেই থাক, বাবা-মা যাদেরকে আমরা নিঃস্বার্থ বলে জানি তাদের হিসাবটা ধরেই অঙ্ক মেলাই এসো। ধরে নাও কোনো দুজন সমবয়সী ছেলেমেয়ে প্রেমে পড়েছে; তারা বিয়ে করতে চায়। এখন কোনো পরিবারই এটা মেনে নেবে না; এক্ষেত্রে তাদের যুক্তি হলো— বিয়ে হলে তারা আর পড়াশুনায় ভালো করতে পারবে না, তাদের লাইফের উন্নতি ধ্বংস হয়ে যাবে। কী মনে হয়? আসলেই এটা কি বাস্তব যুক্তি? মোটেও না, এটা হলো স্বার্থবাদীতাকে ঢেকে রাখার যুক্তি আর সেটাই এখন ব্যাখ্যা করা যাক। ইন্টারমিডিয়েটে বিয়ে করেছিল কিংবা অনার্স লাইফে বিয়ে করেছিল এরূপ যাদেরকে আমি দেখেছি তাদের কাউকেই দেখি নাই যে বিয়ে করার কারণে তারা সফল হতে পারে নাই। এক্ষেত্রে ছেলের পরিবার এটা মেনে নিতে চায় না কারণ ছেলের বাবা-মা চায় ছেলে চাকরি করে টাকা জমিয়ে তারপর বিয়ে করুক, তাদেরকে যাতে টাকা খরচ করতে না হয়। অর্থাৎ কেউ কারও জন্য স্বার্থ ছাড়া হিসেবের বাইরে কোনো খরচ করতে চায় না, এটাই সত্য; সে বাবা-মা যেই হোক না কেনো। অন্যদিকে একজন অধ্যয়নরত ছেলের সাথে মেয়ের বিয়ে হলে লস্ কারণ একজন প্রতিষ্ঠিত ছেলের সাথে বিয়ে হলে তার থেকে যেসব পাওয়ার প্রত্যাশা থাকে এক্ষেত্রে সেসব থাকে না। অলরেডি প্রতিষ্ঠিত ছেলের সাথে বিয়ে হলে মাঝেমাঝেই এটাসেটা পাওয়া তো যায় অনেক কিছু পাওয়ার প্রত্যাশাও করা যায়।
তাই আমরা মেয়েকে সুখী দেখতে চাই বলে এই সম্পর্ক মেনে নিবো না, এটা হলো মেয়ের পরিবারের স্বার্থ ঢেকে রাখার যুক্তি। আর ছেলের পরিবারের যুক্তি হলো ছেলে তো আয় ইনকাম করে না, বউকে কী খাওয়াবে? পরিবারে যদি নিজের তিনটা মেয়ে থাকে তাদেরকে সারাজীবন তথা ১৮-২৪ বছর বয়স পর্যন্ত লালনপালন করা এবং বিয়ে দেওয়া সবই করা যার কিন্তু ছেলে বিয়ে করতে চাইলে অন্য একটা মেয়ে তাদের কাছে খুব বেশি হয়ে যায় তাকে ৩-৪ বছর সাপোর্ট দেওয়া যায় না, কারণ সেটা লস প্রজেক্ট; ছেলে সুখী হোক এই চাওয়াটা মনে আসে না, কিছুদিন একটু বেশি সম্পদ খরচ হবে সেই চিন্তা মাথায় ঢুকে অন্তরে কষ্ট বেজে ওঠে। আসল কথা হলো স্বার্থ। পিতামাতা সন্তানের মঙ্গলের জন্য সবকিছু করে, এটা ভুয়া কথা। তাদের স্বার্থ বজায় রাখতে যতটুকু করা দরকার ততটুকু তারা করে, তার বেশি এক বিন্দুও নয়। এই পৃথিবীতে কেউই স্বার্থের ঊর্ধ্বে নয়।

বঙ্গভঙ্গের ফলে ঢাকায় নতুন প্রদেশের রাজধানী হওয়ায় কলকাতার হিন্দুরা অফিস আদালতের ফি, আইন ব্যবসা ও তদসংশ্লিষ্ট আবাসিক হোটেল ব্যবসা, কর-রাজস্ব আদায় এবং ব্যবসাবাণিজ্যের একচেটিয়া সুবিধা হারায়— তাদের এই স্বার্থহানীই ছিল তাদের বঙ্গভঙ্গ বিরোধিতার মূল কারণ। কিন্তু সেকথা বলে তো আর আন্দোলন করা যায় না, তাই তারা যুক্তি দেখালো যে— বাংলা আমাদের মা, বাংলাকে ভাগ করা মানে বঙ্গমাতার অঙ্গচ্ছেদ করা এবং এটি একটি পাপ কাজ।
অথচ, সেই হিন্দুরাই ভারত বিভাগের প্রাক্কালে ১৯৪৬ সালে অখণ্ড বাংলা গঠনের বিরোধিতা করে তা ভেস্তে দিয়েছিল; এই ছিল বাংলা মায়ের প্রতি ভক্তির নিদর্শন।
রাজনীতি, অর্থনীতি, ধর্মনীতি এসব কোনো নীতিতেই নয়, এই পৃথিবী চলে একটা নীতির উপরে, সেটা হলো 'স্বার্থনীতি'। আর স্বার্থনীতির কুৎসিত রূপ ঢেকে রাখতে ব্যবহৃত হয় যুক্তি।
ব্যক্তিজীবনেও মানুষ এই কাজটাই করে থাকে।

কাছের মানুষ তথা অংশীদারীত্বের সম্পর্কযুক্ত এরূপ কাউকে আপন মনে করে তার কাছে কোনো বিষয়ে পরামর্শ চাইলে সে কখনও সুপরামর্শ দেয় না। বরং সে সুদূর ভবিষ্যৎ পর্যন্ত চিন্তা করে তার নিজ স্বার্থ অটুট রাখতে সে বিষয়ে যেভাবে পরামর্শ দেওয়া দরকার সেভাবে পরামর্শ দেয় এবং সে সম্পর্কিত উদাহরণ ও যুক্তি দিয়ে কনভিন্স করে ফেলে।

আমি সারাজীবন স্বার্থের দ্বন্দ্ব দেখে এসেছি এবং এখনও দেখছি। স্বার্থবাদীতার বিভৎস রূপটাকে আমি বেশ ভালো করে দেখেছি। যদিও মানুষজাতি সেটাকে যু্ক্তি নামক খোলস পরিয়ে ঢেকে রাখে তবুও তা আমার নজর এড়ায়নি। অনেক ধর্মগুরুকে দেখেছি নিজ স্বার্থের জন্য উল্টাপাল্টা ফতোয়াবাজি করতে। প্রার্থনালায়েও ধর্মগুরু কর্তৃক চাঁদাবাজি হতে দেখেছি।
এমনকি আমার মাতৃপক্ষের আত্মীয়স্বজনদের হীনস্বার্থবাদীতার নোংরা খেলায় বলির পাঠা হয়ে নিজের লাইফটাকে তছনছ লণ্ডভণ্ড হতে দেখেছি আমি।

সুতরাং আর কাকে সম্মান করবো আমি? আর কাকে ভালোবাসবো আমি? হু ইজ দ্যাট পার্সন?
আমিও যে মানুষ; আমারও যে দুঃখ-কষ্ট নামক অনুভূতিগুলো আছে সেটা তো কেউ মনেই করে না।
আমাকে কেয়ার করার কেউ নেই, আমাকে ভালোবাসার কেউ নেই, আমার পাশে দাঁড়ানোর কেউ নেই। সো আই ডোন্ট কেয়ার এ্যানিওয়ান ইলস্।

© লেখক : মেহেদী হাসান।
বই : আই ডোন্ট কেয়ার (লেখা চলছে)।



লাইফের বিভিন্ন বিষয়ে উপদেশ-পরামর্শ পেতে লাইফ একাডেমির অ্যাডভইস ডেক্সে আসুন। আর Advice Desk এর ওয়েবসাইটের হোমপেজে যেতে এখানে—ক্লিক—করুন

সুন্দর জীবনের জন্য পরামর্শ | Advice Desk

Sunday, November 17, 2019

Preface to 'I Don't Care'!


ভালোবাসা, সহানুভূতি, উৎসাহ, সাহায্য, প্রশংসা, কৃতজ্ঞতা, সেক্রিফাইজ-কম্প্রোমাইজ— এই জিনিসগুলোর সাথে আমি পারিবারিকভাবে পরিচিত নই; আমি এসব সম্পর্কে জেনেছি বই পড়ে এবং সিনেমা-নাটক দেখে দেখে। আমি ছোটবেলা থেকে পারিবারিকভাবে পরিচিত স্বার্থের দ্বন্দ্ব, সুবিধাবাদ, কর্তৃত্ববাদ, অবহেলা, তিরষ্কার, আত্নকেন্দ্রীকতা, জোচ্চুরিবিদ্যা— এসবের সাথে, এসব দেখে দেখে আমি বড় হয়েছি। এসব ফেস করায় এই ২৯ বছর বয়সেও আমি একজন শূন্য মানুষ। কারণ আমি অন্যদের মতো স্বার্থবাদী হয়ে নিজের আখের গোছাতে পারিনি।
আমার সঙ্গে যারা ব্যক্তিগতভাবে পরিচিত তারা জানেন আমি কতটা সৎ, ধৈর্য্যেশীল, অধ্যবসায়ী ও উদ্যোগী। কিন্তু অভিশপ্ত ফ্যামিলিতে জন্ম হওয়ায় লাইফে উন্নতি করার সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে এবং এখনও হচ্ছে; ভবিষ্যতেও যে হবে তার লক্ষণও সুস্পষ্ট।
তাই ভবিষ্যতে হয়তো আমাকে আন্ডারওয়ার্ল্ড কিংবা অন্যকোনো অস্বাভাবিক পেশায় যেতে হবে। সেদিন আশ্চর্য হয়ে কিছুক্ষণ স্থম্ভিত হয়ে পড়ে নিজের এনার্জি লস করার প্রয়োজন নেই। আমাকে এতোদিন ভালো মানুষ ভেবে এসেছেন এই যথেষ্ট; আর ভালো মানুষ ভাবার প্রয়োজন নেই। 'ও এমন হতেই পারে না'— আমাকে নিয়ে আর এই উক্তি করার প্রয়োজন হবে না।
হিটলার ৬০ লক্ষ ইহুদিকে হত্যা করার পর অল্পকিছু ইহুদিকে বেঁচে রেখেছিল যাতে পৃথিবীবাসী জানতে পারে ইহুদি কী জিনিস! অর্থাৎ হিটলারের কেনো ইহুদিবিদ্বেষ জন্মেছিল ও কেনো ইহুদি হত্যা করেছিল সেই প্রশ্নের উত্তর হিসেবে অল্পকিছু ইহুদি বেঁচে রেখেছিল।
আমাকে কেনো এই ২৯ বছর বয়সে এসে এতোদিনের স্রোতের বিপরীতে চলে ধরে রাখা আদর্শ ও নীতি থেকে সরে এসে আন্ডারওয়ার্ল্ড কিংবা অন্যকোনো অস্বাভাবিক পেশায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে তার উত্তর হিসেবে দুইটি বই লেখা শুরু করেছি— 'গিভ অ্যান্ড টেক' এবং 'আই ডোন্ট কেয়ার'। আশাকরি কয়েক অন্ধের হাতি দেখা গল্পের হাতির একটি অংশ দেখে মন্তব্য করার মতো ভবিষ্যতে আমার সম্পর্কে ১০% জেনে কমেন্ট করার আগে আমার এই বই দুইটা পড়ে দেখবেন।

© মেহেদী হাসান,
লেখক : আই ডোন্ট কেয়ার।

"নিন্দা করতে গেলে বাইরে থেকে করা যায়, কিন্তু বিচার করতে গেলে ভেতরে প্রবেশ করতে হয়"
— রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর


Saturday, November 16, 2019

আই ডোন্ট কেয়ার | ই-বুক


••••••••••

টপিকসমূহ→
অধ্যায়—১ : আমার 'আই ডোন্ট কেয়ার' নীতির প্রেক্ষাপট

অধ্যায়—২ : আমি যেসব পারিবারিক সমস্যা ফেস করেছি
-----

অধ্যায়—৩ : এই জগৎ ও সমাজ আমাকে যেসব বাস্তবতার শিক্ষা দিলো

অধ্যায়—৪ : লাইফে মানুষের যেসব আদর্শরূপী কপটতা দেখলাম
ক. মসজিদে চাঁদাবাজি
খ. ধর্ম নিয়ে ব্যবসা
গ. মানুষের অসহায়ত্ব নিয়ে ব্যবসা (আনাস, সৃষ্টি, বাড়িওয়ালা)
ঘ. ধর্মকে নিজের সুবিধালাভে ধর্মের বাছাইকৃত বিধানগুলো ব্যবহার করা।

অধ্যায়—৫ : লাইফে যেসব প্রসিদ্ধ নীতিকথা ভুল প্রমাণিত হতে দেখলাম
-----

অধ্যায়—৬ : ছোলোবেলার শিক্ষা ভার্সেস বড়বেলার বাস্তবতা
ক. ভালো ছাত্র-অনুগত ভদ্র ছেলে হলেই সফল মানুষ হওয়া যায় না
খ. ইচ্ছে থাকলে উপায় হয় কথাটা ভুল, বাস্তবতার জ্ঞান ও কৌশল থাকলে সফল হওয়া যায়
হেল্পবুক — Helpbook

ধন্যবাদ | মেহেদী হাসান